অন্য এক ভোরের অপেক্ষা

জুয়েল হোসাইন মজুমদার
আপডেটঃ জুন ১৭, ২০২০ | ১০:৪২
জুয়েল হোসাইন মজুমদার
আপডেটঃ জুন ১৭, ২০২০ | ১০:৪২
Link Copied!

চলে যাচ্ছে সময় থেমে নেই কেউ। যে যার মতো চলছে নিজস্ব কক্ষপথে। আমি মনে হচ্ছে সবার চেয়ে একটু ব্যতিক্রম। অজানা এক ঢেউ আমাকে ভাসিয়ে দিলো তীরহারা সমুদ্রে। সময় আমাকে প্রতিনিয়ত শিখাচ্ছে কঠিন রিয়ালিটি। যখন আর্থিক সংকটে পতিত হই, জীবনকে যেনো আমি নতুন ভাবে উপলব্ধি করি। পাশের মানুষ গুলোর সাথে তৈরি হয় পরোক্ষ এক দূরত্ব। এই দূরত্ব আমাকে শিখিয়েছে, কিভাবে একাই সকল বিপর্যয় মোকাবেলা করতে হয়।

আমি ছোটবেলায় শুনেছিলাম ‘পড়ালেখা করে যে গাড়িঘোড়ায় চড়ে সে’ কিন্তু বড় হয়ে দেখি পড়ালেখা করা ছাড়াও গাড়িঘোড়ায় চড়া যায়। এমনকি নামীদামী গাড়ির মালিক হওয়া যায়। তবুও পড়ালেখা করতে করতে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করলাম। কি লাভ হলো তাতে? এই সময়ে আমার পড়ালেখা না করা বন্ধু লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক।

অথচ, আট হাজার টাকা বেতনের চাকরির জন্য আমাকে দশ লক্ষ টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তারপরও আমি হতাশ নই! আমি চাকরির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করিনি। আমি পড়াশোনা করেছি নিজেকে উন্নত এবং সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে।। বলতে দ্বিধা নেই, এই মূহুর্তে আমি শিক্ষিত বেকার। যার জন্য আমি দেশের সিস্টেম কে দায়ী করতে চাই। সমগ্র দেশে আজ আমার মতো লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক দায়িত্ব এবং পেটের দায়ে অনেকে দিনমজুর কিংবা রাস্তার পাশে হকারি করছেন। কেউ কেউ কোন উপায় না পেয়ে প্রবাসে পাড়ি যমাচ্ছেন।

আমিও হয়তো তাদের কাতারে সামিল হবো। আমি লজ্জিত নই বরং গর্বিত। একজন হকার, রিক্সা চালক, শ্রমিক এবং কৃষক হলে এদেশের অন্তত একজন শিক্ষিত বেকার মুক্ত হবে।

নতুন স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই কর্মমুখর হয়ে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

ট্যাগ: