পথচারীদের পুলিশি হয়রানির নিন্দা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ মার্চ ২৭, ২০২০ | ১০:৪৬
ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ মার্চ ২৭, ২০২০ | ১০:৪৬
Link Copied!

রাস্তায় অকারণে সাধারণ জনগণকে পুলিশি হয়রানির নিন্দা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

রাস্তায় পথচারীদের সচেতনতার নামে পুলিশ লাঠিপেটা করছে- এ বিষয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত দেশ তো লকডাউন করা হয়নি। রাস্তায় অহেতুক ঘোরাফেরা না করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় যে কেউ প্রয়োজনে যেতেই পারেন। কিন্তু গেলেই তাকে হয়রানির সম্মুখীন হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি করার জন্য পুলিশকে বলা হয়নি’।

তিনি বেলন, ‘গতকালও (বৃহস্পতিবার) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, মানুষ প্রয়োজনে অবশ্যই রাস্তায় বের হতে পারে, কিন্তু অপ্রয়োজনে যাতে কেউ না বের হয়। আর অপ্রয়োজনে কেউ যদি বেরও হয় তাহলে বুঝিয়ে ঘরে পাঠানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কেউ ঘর থেকে বের হলেও তাদের হয়রানি করা সঠিক নয়’।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার তার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এসব বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বৈশ্বিক মহাদুর্যোগ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশবাসীকে ঘরে থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণ প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে কার্যত ঘরেই অবস্থান করছেন’।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবকিছু ভুলে গিয়ে মানবিক কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাহী ক্ষমতাবলে তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু আমরা দেখতে পেয়েছি, সমস্ত দেশের মানুষ যখন ঘরের মধ্যে অবস্থান করছেন, এই বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবিলার করার জন্য যার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব তা করছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন। তখন আমরা দেখতে পেলাম, বেগম জিয়ার মুক্তিলাভের সময় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে হাসপাতালের সামনে হাজার হাজার লোকের জমায়েত হয়েছে। গুলশানের বাড়ির সামনে ও পথে হাজার হাজার লোকের জমায়েত হয়েছে। যেখানে মহান স্বাধীনতা দিবসের সমস্ত অনুষ্ঠান, এমনকি স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়ার কর্মসূচি পর্যন্ত বাতিল হয়েছে। সেখানে বিএনপির পক্ষ থেকে হাজার হাজার মানুষের জমায়েত করা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় ছাড়া অন্য কোনো কিছু নয়’।

বিজ্ঞাপন

হাছান মাহমুদ আরো বলেন, ‘আজকে পৃথিবী বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবিলা করছে। আমরা এই সময় কোনো রাজনৈতিক বাদানুবাদ চাই না। আমরা আশা করব বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই মহা দুর্যোগ মোকাবিলায় করতে সক্ষম হব’।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা দেখছি একটি জীবাণুর কাছে মানুষ কত অসহায়। সমস্ত পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ লকডাউন অবস্থায় আছে। সমস্ত পৃথিবী আজ থমকে গেছে। আমরা একটি জীবাণুকে এখনো পরাস্ত করতে পারিনি। অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি পৃথিবীতে স্বাস্থ্য গবেষণার জন্য ব্যয় হচ্ছেন ২.৩ বিলিয়ন ইউএস ডলার । যা মাত্র কয়েকটি অত্যাধুনিক সামরিক বিমানের মূল্যের সমান। অথচ আমরা একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য ব্যয় বাড়িয়ে যাচ্ছি। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে সামরিক ব্যয় বেড়েছে ২.৬ শতাংশ। এটা দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের জীবাণুর আক্রমণ হতে পারে তাই মানবজাতিকে স্বাস্থ্য গবেষণায় ব্যয় বাড়ানোর জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানাই’।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

ট্যাগ: