শিক্ষালয় ও স্মৃতিকথন (দ্বিতীয় পর্ব)

মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল পাটওয়ারী
আপডেটঃ জুলাই ২, ২০২০ | ৩:০৭
মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল পাটওয়ারী
আপডেটঃ জুলাই ২, ২০২০ | ৩:০৭
Link Copied!

আমি ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সালের জুন পর্যন্ত প্যারাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্যারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। পরবর্তী কালে অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুৎশাহী সদস্য ছিলাম দুই বার। কিন্তু ছাত্র জীবনের স্মৃতিটাই অনেক বেশি স্মৃতি বহুল এবং অনেক গর্বের।

১৯৮৬-১৯৮৭ সালের দিকে এই বিদ্যালয়কে মাধ্যমিক করার চেষ্টা হয়েছিল। সে সময়ের উল্লেখযোগ্য- ছাত্র ইসমাইল হোসেন স্বপন, আবুল বাশার, আবদুল হালিম, মোঃ শফিকুর রহমান এবং আবদুল কাইয়ুম তপদার। আর আমার ব্যাচের মোঃ শাহজাহান, শুকুর আলম, মোস্তফা মিঠু, আজম খান, মোঃ ফারুক, মেয়েদের মধ্যে শাহনাজ আপা, কামরুন্নাহার আপা, রিত্তা আপা, আমার সহপাঠী ফরিদা আক্তার রত্না, আফরোজ আক্তার, সেলিনা আক্তার আসমা আক্তার প্রমুখ।

শিক্ষালয় ও স্মৃতিকথন (১ম পর্ব)

বিজ্ঞাপন


ইসমাইল হোসেন স্বপন ভাই একজন মিষ্টভাষী সদা হাসিখুশি বিনয়ী মানুষ ছিলেন। বিদ্যালয়ের সবার পছন্দের মানুষ তিনি, স্বপন ভাইকে কখনো রাগ করতে দেখি নাই। ছাত্র জীবন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই বিদ্যালয়ের সুখে, দুঃখে পাশে ছিলেন। উনার অবদান ভোলার নয়। স্বপন ভাইকে আল্লাহ জান্নাতের উচ্চ মকাম দান করুক। স্কুলে নোয়াপাড়ার আবুল বাশার ভুঁইয়া ছিলেন খেলাধূলায় সবার সেরা। আর শাহনাজ আপার ইনডোরে গানের গলা ছিল খুব সুন্দর। সব ইভেন্টে উনি পুরস্কার পেতেন। শাহনাজ আপার একটি গুন ছিল, ব্যাকরণ নিয়ে উনি ছোট, বড় সবার সাথে আলোচনা করতেন, প্রয়োজনে শিখিয়ে দিতেন।

আমাদের সময় নির্মিত কোন শহীদ মিনার ছিলো না। আমরা ছেলেরা মাটি এনে দিতাম আর মেয়ারা সেই মাটি দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে ফেলতো। শহীদ মিনার বানানোর কাজে শাহনাজ আপা, কামরুন্নাহার আপা, রিত্তা আপা, ফরিদা আক্তার রত্না, আফরোজা আক্তার, আছমা আক্তার এবং সেলিনার সহযোগিতায় শহীদ মিনার তৈরী করতাম। যেকোন কাজে আমরা সবাই মিলে মিশে একাকার হয়ে যেতাম। মনে হতো সবাই একই পরিবারের সদস্য। কাঁচা আম, তেঁতুল, বাদাম সবাই মিলে ভাগ করে খেতাম। কি যে, আনন্দ লিখে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। ভালবাসার বন্ধন ছিল এতোই মধুর যে মনে হতো আমরা সারা জীবন এই প্রাণের বিদ্যালয়ে থাকবো। স্কুল জীবনের স্মৃতি গুলো যখনই মনে পড়ে মন চায়- বার বার ফিরে আসি প্রাণের বিদ্যালয়ে, প্রাণের বিদ্যালয়ের স্মৃতি গুলো মনে হলে দু’চোখে পানি চলে আসে।

সহপাঠীদের এখনো খুঁজে ফিরি, সেই সময়ের আনন্দঘন মুহুর্ত্ব গুলো আমার স্মৃতির পাতায় আজীবন বেঁচে থাকবে। সহপাঠী সহ সবাই যে, যেখানে আছে, আল্লাহ যেন ওদের সবাইকে সুস্থ রাখে। তাদের জন্য দোয়াও শুভকামনা।

শিক্ষালয় ও স্মৃতিকথন

প্রাণের বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কথা না বল্লেই নয়! প্যারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার স্বার্থকতাই হলো শিক্ষক! এখানে আমি পেয়েছি অনেক আর্দশবান শিক্ষক। তাদের মধ্য অন্যতম শফিকুল ইসলাম স্যার, সেই সময়ে ঠিক মতো বেতন না পেলেও স্যারদের কোন অভিযোগ ছিল না! সাঈদ স্যার ছিলেন আমার সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষক। তিনি সন্ধ্যার পর বাড়ী, বাড়ী গিয়ে দেখতেন তার ছাত্র/ছাত্রীরা পড়ার টেবিলে আছে কিনা। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্যারাপুর নিম্ন মাধ্যমিক থেকে শুরু করে রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সেখান থেকে চাঁদপুর সরকারি কলেজ এবং পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছি। কিন্তু প্রকৃত শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছি, তখনকার সময়ে কোনরকমে দাঁড়িয়ে থাকা ঝরাজীর্ণ ভাঙ্গাচুরা টিনের ঘর থেকেই । অবহেলিত বিদ্যালয়কে ভালোবেসে যে, সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ তখনকার সময় শিক্ষা প্রদান করেছেন, তাদের সকলের জন্য রইলো শ্রদ্ধা, আর ভালবাসা।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষালয় ও স্মৃতিকথন (১ম পর্ব)


প্রাণের এই বিদ্যালয়টি একাডেমিক স্বীকৃতি প্রায়-২০০২ সালে। এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উচ্চ বিদ্যালয়ে রুপান্তরে যার সবচেয়ে বেশি অবদান- তিনি হলেন এই বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা মঈন উদ্দিন মিজি সাহেব। তিনিই শ্রদ্ধাভাজন আলহাজ্জ হেলাল উদ্দিন মিজিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করেন। আজ প্যারপুর উচ্চ বিদ্যালয় স-মহিমায় আলোকিত। এলাকার ঘরে ঘরে প্রাণের বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ছে। এটা আমাদের জন্য অনেক গর্বের। প্যারাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অনেক মেধাবী ছাত্র/ছাত্রী বের হচ্ছে। প্রাণের বিদ্যালয়ের আগামী দিনের পথচলায় এদের আমাদের প্রয়োজন। সেই আলোকেই একিটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘প্রাক্তন ছাত্র ঐক্য পরিষদ’। আগামী দিনে প্রাণের বিদ্যালয়ের পাশে থেকে ‘প্রাক্তন ছাত্র ঐক্য পরিষদ’ কাজ করে যাবে এই প্রত্যাশায় সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন, এখন দেশে মহামারী চলছে তাই সবাই নিরাপদে থাকুন। মহান রাব্বুল আলামিনের উপর ভরসা রাখুন।

লেখক-প্রাক্তন ছাত্র, প্যারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়।
( তৃতীয় পর্ব পড়তে পপুলার বিডিনিউজ ডটকমের চোখ রাখুন, লাইক পেইজে লাইক দিয়ে রাখুন)

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

ট্যাগ: