শিক্ষালয় ও স্মৃতিকথন ( ৩য় পর্ব )

মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল পাটওয়ারী
আপডেটঃ জুলাই ১২, ২০২০ | ৪:৪২
মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল পাটওয়ারী
আপডেটঃ জুলাই ১২, ২০২০ | ৪:৪২
Link Copied!

২০০২ সালের শুরুর দিকে কোন একদিন আমি প্যারাপুর হয়ে কালচোঁ গ্রামের দিকে যাচ্ছিলাম। উদ্দেশ্য স্কুল জীবনের কিছু বন্ধুদের সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করবো। ঐ দিনেই প্রাণের বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া পুরস্কারের অনুষ্ঠান চলছিল। হঠাৎ স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা মোঃ মাঈন উদ্দিন সাহেব মাইকে ঘোষণা দিলেন, অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে আমার নাম! হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম। আবেগ, ভালবাসা জড়িত প্রাণের বিদ্যালয়ের ডাকে সাড়া দিয়ে আমি সেদিন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে বিশেষ অতিথির আসন গ্রহন করলাম। যার জন্য আগে থেকে আমার কোনো প্রস্তুতি ছিল না।

প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানতে পারলাম স্কুল পরিচালনার জন্য একটি এডহক কমিটি গঠিত হয়েছে। আর এই কমিটিতে বিদ্যালয়ের অভিভাবকগণ থাকবে সেটাই প্রত্যাশা করেছিলাম। তখনও কিন্তু নবম ও দশম শ্রেণীর একাডেমিক স্বীকৃতি মেলেনি।

তখনকার সময় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন মল্লিক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে আমার সমথর্ন আশা করেন। জবাবে আমি তাঁকে বলেছি- আমার ছোট্ট দুই শর্ত আছে। শর্ত দুটি মানলে কেউ থাকুক আর না থাকুক আমি আপনার পাশে থাকবো। শর্ত গুলোর কথা উল্লেখ না করলেই নয়। এক. নাম্বার শর্ত ছিল প্যারাপুর স্কুলের এডহক কমিটি বাদ দিয়ে আপনাদের চলে আসতে হবে। দুই. রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পুলিন বিহারি স্যারকে পুনঃ নিয়োগ দিতে হবে। তিনি আমার দেওয়া দুটি শর্তই মেনে নেয়ায় আমি ভোটের দিন পর্যন্ত মরহুম আনোয়ার হোসেন মল্লিকের পাশে ছিলাম।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় পর্ব পড়তে নিচে ক্লিক করুন-

শিক্ষালয় ও স্মৃতিকথন (১ম পর্ব)


যা হোক সেই থেকেই আবেগ অনুভূতি জড়িত প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবার নতুন করে পথচলা। ১৯২৬ সাল থেকে অবহেলা অনাধরে অযত্নে পড়ে থাকা বিদ্যালয়টির দায়িত্ব নেন- শ্রদ্ধেয় আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন মিয়াজী, দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তিনি ৪৬ শতাংশ জমি এবং নগদ ৫ লক্ষাধিক টাকা স্কুলের ফান্ডে দান করেন। তাঁর আন্তরিক চেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি একটি ভালো অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায়। তিনি প্রবাসী ভাইদের কাছ থেকেও প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে সকলের আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন মিয়াজী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পুনঃ জন্ম দিয়েছেন। তাঁর অবদান ভুলার মতো নয়। এ প্রতিষ্ঠান যতদিন থাকবে ততদিন তাঁর নামও থাকবে। আমি মন থেকে দোয়া করি আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন মিয়াজীর জন্য, আল্লাহ সুস্থতার সহিত নেক হায়াত দান করুক।

বিজ্ঞাপন

এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত শিক্ষকদের মধ্যে মাওলানা মাঈন উদ্দিন মিয়াজী। তিনি ১৯৯৮ সালের ২৩ শে জুন, শিক্ষক হিসাবে যোগদানের পর থেকে বহু চড়াই উৎরাই পার করে প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর সম্পর্কে লিখতে গেলে লিখে শেষ করা যাবে না। তিনি ৪ টি মামলা ২ বসৎর যাবত মোকাবিলা করে আজকের এ অবস্থানে প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এসেছেন। আমি দেখেছি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সন্মান দিয়ে সন্মানিত অতিথি করেছেন। প্রাণের এ প্রতিষ্ঠানের জন্য সমাজের বহু মানুষের কাছে হাত পেতেছেন। স্কুলের সু-দিনে কাউকে কাছে পাওয়া অনেক সহজ। কিন্তু আগে এ কাজটা কিন্তু এতো সহজ ছিল না। ফলে ১৯৯৮ সাল থেকে এমপিও ভুক্তির ২০১০ সাল এই এক যুগ পযন্ত তাঁকে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে। ২০০২ সাল থেকে খুব কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের ভালো মন্দ দেখে আসছি। আমি নিজেও অনেক বাস্তবতার স্বাক্ষী।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্দে কমিটির সদস্যদের মধ্যে মরহুম সহিদ উল্লাহ মজুমদারের কথা না বল্লেই নয়। তিনিও সুখে, দুঃখে স্কুলের পাশে ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের পাশে থেকে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে মৃতুর আগ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করে গেছেন। আবেগ অনুভূতি জড়িত প্রাণের বিদ্যালয়ের জন্য এখনো নিঃস্বার্থ ভাবে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন একজন মানুষ আর তিনি হলেন মিজানুর রহমান। যখনই স্কুলের কোন কাজে ডাক পড়ে তখনই শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি ছুটে যান। প্রাণের বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ পরপর দুবার স্কুলের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে স্কুলকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে এসেছেন।

প্রথম পর্ব পড়তে নিচে ক্লিক করুন-

শিক্ষালয় ও স্মৃতিকথন (১ম পর্ব)


এ বিদ্যালয়কে যারা অর্থ দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ীয়ে দিয়েছেন তাদের মধ্যে মরহুম খোরশেদ মাষ্টার অর্থ দিয়ে মাটি ভরাটে সহযোগিতা, আনোয়ার হোসেন (আয়ারল্যান্ড প্রবাসী) অর্থ দিয়ে জমি কিনায় সহযোগিতা, মোস্তফা কামাল বাবুল কম্পিউটার দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা, সৌদি আরব প্রবাসী মোস্তফা তপদার নন এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের বেতন বাবদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা এবং ইসমাঈল হোসেন স্বপন শিক্ষকদের বেতন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন। আরো অনেকেই প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের নাম স্কুলের অনারিয়াম বোর্ডে লেখা আছে। এরা সবাই অর্থে বিত্তে ধনী না হলে মনের দিক থেকে ধনী ছিলেন। মূলত এরাই ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত স্কুলের সহযাত্রী। এরাই বিদ্যালয়ের প্রকৃত বন্ধু।

ইসলামীয়া হোমিও হল

২০১০ সালে স্কুল এমপিও ভুক্তি হবার পর প্রাণের বিদ্যালয় অনেক সমাজপতিকে কাছে পেয়েছে, যাদের আন্তরিকতায় বিদ্যালয়টি আজ একটি বিশাল কমপ্লেক্স এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং কাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পড়াশোনার মান উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা পালন করছে- তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলোকিত ব্যক্তিরা হলেন মোঃ আক্তারুজ্জামান মুন্সি, মুসলিম উদ্দিন আশু, মোজাম্মেল হায়দার ইদু চৌধুরী, এলাকার সূর্য সন্তান প্রিয় মুখ আশরাফ উদ্দিন দুলাল পাটোয়ারী সহ আরো অনেকে।

আলহামদুলিল্লাহ্, হাজীগঞ্জ এর কৃতী সন্তান ত্রাণ ও দূর্যোগ পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব শ্রদ্ধেয় শাহ কামাল সহ অনেকেই বর্তমানে প্রাণের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিক ভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। পরিশেষে প্রাণের এ বিদ্যালয়কে ইনশাআল্লাহ মহাবিদ্যালয় হিসাবে দেখার ইচ্ছে পোষণ করে, যারা প্রতিষ্টালগ্ন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন তাদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালবাসা রইলো।

যে সকল হৃদয়বান মানুষ এই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এই মহৎ কাজে অর্থ, বুদ্ধি, পরামর্শ, দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে থেকে যারা মহান রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে গেছেন, তাদের সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

লেখক- প্রাক্তন ছাত্র, প্যারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়।

শুকরান হাসপাতাল

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

ট্যাগ:

শীর্ষ সংবাদ:
ঘূর্ণিঝড় রেমালে পৌনে ২ লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, মৃত্যু ১৬ জনের মতলবে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলে জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা  আজিজ-বেনজীরকে ‘সরকার প্রটেকশন দেবে না’: সালমান এফ রহমান ফরিদগঞ্জ ও কচুয়া উপজেলার স্থগিত ভোটের নতুন তারিখ ঘোষণা এক পাঙ্গাশ মাছের দাম ৭৭০০ টাকা! নাতনির হাত ধরে ভোট দিতে এলেন শতবর্ষী নারী ছাদ পরিষ্কার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে নারীর মৃত্যু এসএসসিতে ফেল করলেও কলেজে ভর্তির সুযোগ! মতলব উত্তরে আবারও দেখা মিলল রাসেল ভাইপার সাপের ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বাঁধে ধস : আতঙ্কে ৫ লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফেরার পথে পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু ৪৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত কচুয়া ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত ৬০ ঘণ্টা পর চাঁদপুর নৌরুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব সবজি বিয়ের ১২ দিন পর স্বামী জানলেন বউ পুরুষ! হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কে যাত্রীবাহী বাস ছিটকে পুকুরে: আহত ২৫  পরীক্ষার কারণে ঘুর্ণিঝড় স্থগিত: ভুয়া বিজ্ঞপ্তির ঘটনায় থানায় জিডি করল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হাইমচরে চোরাই মালামাল সহকারে মহিলা মেম্বারের স্বামী মনির গাজী’সহ আটক চার গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত চাঁদপুরে