হাজীগঞ্জে সাবেক সচিব পরিবার ও ইউপি চেয়ারম্যানের হামলায় স্বামী গুরুতর আহত, স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

মনিরুজ্জামান বাবলু
আপডেটঃ আগস্ট ২১, ২০২০ | ১:২৮
মনিরুজ্জামান বাবলু
আপডেটঃ আগস্ট ২১, ২০২০ | ১:২৮
Link Copied!

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের কাপাইকাপ গ্রামে সাবেক সচিব শাহ কামালের পরিবার ও ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় জীবন বীমা কর্পোরেশন এর কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার জুমার নামাজের পর আহত সিরাজুল ইসলাম প্রধানিয়াকে শতাধিক কিশোর-যুবক বাহিনী লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। ওইসময় সিরাজুল ইসলামের বসতঘর ভাংচুর, লুটপাট করা হয়। এ বিষয়ে  ২১ আগস্ট শুক্রবার সকালে হাজীগঞ্জ বাজারের গাউছিয়া হাইওয়ে হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে  সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন আহত সিরাজুল ইসলামের ইসলামের স্ত্রী সালমা ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সালমা ইসলাম বলেন, সাবেক সচিব শাহ কামালের ভাই একেএম শাহজাহান সাজু সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর তার ছেলে সাজ্জাদুল হক রিমন ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম কে ফোন করলে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এক থেকে দেড় শতাধিক যুবক স্তিএনজি, মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ী ঘিরে ফেলে। তারা ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ি বেধড়ক লাঠিপেটা করে।

তিনি আরো জানান, আমরা স্বামী অচেতন হয়ে পড়ে। পরে আম্বুলান্স এর করে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু ওই দলবল আমাদেরকে এম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিতে ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাদের হাতে-পায়ে ধরে আমার স্বামীকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরবর্তীতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করেন। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। সেখানেও পুলিশী কেইস ছাড়া চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। আমার স্বামীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

সালমা ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সাবেক সচিবের পরিবার ও ইউপি চেয়ারম্যান এর প্রভাবের কারণে আমি এখন ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘর ছাড়া। এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিতে পারি নাই। মামলা করার প্রস্তুতি রয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনের সহযোগিতা পাওয়ার জন্য সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হলাম। আমি আমার স্বামীর উপর হামলার বিচার চাই।

সংবাদ সম্মেলনে সালমা ইসলাম আরো বলেন, চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ইউনিয়ন পরিষদের একজন বিচারক হয়ে এলাকায় অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। সাবেক সচিব শাহ কামালের পরিবার ও খোরশেদ আলম  চেয়ারম্যান হওয়ার কারণে তাদের অপকর্ম এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। সংবাদমাধ্যমে সমাজকে তাদের বিষয়ে অবহিত করতে চাই।

জানতে চাইলে সালমা ইসলাম বলেন, শাহজাহান সাজু ও তার ছেলের সাথে এর পূর্ব বাড়ির মুখে সিএনজি ও মোটরসাইকেল রাখা নিয়ে হট্টগোল বাদে। তারই সূত্র ধরে এর আগেও সাজুর স্ত্রী আমার ঘরে এসে শাসিয়ে গেছে । তারপর থেকে তারা আমাদের প্রতি পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করার চেষ্টা করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাজীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন রনি বলেন, এমন ঘটনার কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পপুলার বিডিনিউজ ডটকমের পক্ষ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বকাউলের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহজাহান সাজু। তাকে সিরাজুল ইসলাম রক্তাক্ত জখম করেছেন। খবর পেয়ে আমি ওই বাড়ী গিয়েছি। সাথে কয়েক ‍যুবকও সিএনজি যোগে গিয়েছে। কিন্তু সিরাজুল ইসলামকে বাড়ীতে পাওয়া যায়নি। চলে আসার পর পুনরায় সিরাজুল ইসলাম বের হয়ে সাজু ও তার পরিবারকে গালিগালাজ করে। তখন কয়েক যুবক গিয়ে সিরাজুল ইসলামকে মারধর করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষে মো. কামাল হোসেন ও এনায়েত মজুমদারসহ নেতৃবৃন্দ ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

ট্যাগ: