হাজীগঞ্জে শ্বশুরের সাথে জামাইর শত্রুতা, পুড়ে গেল বসতঘর

পাপ্পু মাহমুদ
আপডেটঃ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ | ৫:১৯
পাপ্পু মাহমুদ
আপডেটঃ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ | ৫:১৯
Link Copied!

হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫নং সদর ইউনিয়নের মধ্য অলিপুর মুন্সি বাড়ির একটি টিনশেড বসতঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভুক্তভোগি পরিবারের দাবি শত্রুতার জের ধরে তাদের বসত ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। আর অভিযোগের তীর আপন মেয়ের জামাইয়ের দিকে। ঘরে কোন গ্যাসের সিলেন্ডার ছিলনা এবং বিদ্যুতের মেইন সুইচটিও বন্ধ ছিল। পরিকল্পিত ভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে। যার কারনে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র, জায়গা জমির দলিল ও ফ্রিজসহ সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মধ্য অলিপুর গ্রামের মুন্সি বাড়ির মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে ইলিয়াছ মুন্সির (৭০) বসত ঘরে সোমবার দিবাগত রাতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ইলিয়াছ মুন্সির সহপরিবার ঢাকায় বসবাস করার কারণে অগ্নিকান্ডের সময় কেউ বাড়িতে ছিলনা। গ্রামের বাড়িতে বসবাস না করায় বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে তালাবদ্ধ ছিল ঘরটি। ইলিয়াছ মুন্সির ভাই প্রথম আগুন দেখতে পায়। হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে পারলেও ঘরে থাকা সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী পরিবার আরো দাবি করেন, তাদের বসতঘরে আগুন দিয়েছে মেয়ের জামাই। ইলিয়াছ মুন্সির মেয়ের স্বামী একই গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল মান্নানের ছেলে হাসমত উল্লাহ রানা শালু। সে র্দীঘদিন ইলিয়াছ মুন্সির মেয়েকে নির্যাতন করে আসছে। তাই তারা আলাদা বসবাস করেন। এর মধ্যে হাসমত উল্লাহ রানা প্রায় তাঁর স্ত্রী ও তার পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছে। অগ্নিকান্ডের আগের দিনও রানা তার স্ত্রীকে হুমকি দেন বলে জানা যায়।

বিজ্ঞাপন

হাসমত উল্লাহ রানা শালু জানান, ‘আমাদের পারিবারিক অশান্তি আছে, তবে আমি অগ্নিকান্ডের সাথে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে যদি তারা অভিযোগ তোলে, তাহলে আমি তাদের মেয়ের বিভিন্ন ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে দিবো। ’

ইলিয়াছ মুন্সির জেষ্ঠ্য ছেলে মিজানুর রহমান সুমন (৩৮) জানান, আগুনে আমাদের সবকিছু পুড়ে গেছে। ঘরে থাকা আসবাবপত্রসহ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। হাসমত উল্লাহ ছাড়া আমাদের কোন শত্রু নেই। আমরা মামলা করার প্রস্ততি নিচ্ছি।

ইলিয়াছ মুন্সির ছেলে শরিফ হোসাইন (৩২) জানান, আমার ভগ্নিপতি দীর্ঘদিন বোনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলো। আমার বোন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। হাসমত উল্লাহ আমার বোনের কিছু ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দামকি দিয়ে আসছে। আমার বোনের সাথে তার দ্বন্দ্ব বেশি তীব্র হয় সে যখন ঘরে বসে ইয়াবা খায়। আমার বোন প্রতিবাদ করলেই শারিরীক নির্যাতন করে। আমাদের ঘরে আগুন দেওয়ার আগের দিনও আমার বোনকে হুমকি দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হাজীগঞ্জ ফায়ার সাভিসের স্টেশন অফিসার রুবেল মিয়া জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারনা করেছি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়।

হাজীগঞ্জ থানা অফিসার ইনর্চাজ আলমগীর হোসেন রনি জানান, আগুনের সূত্রপাতের ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস সঠিক বলতে পারবে। আমরা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছি তারপর বলতে পারবো।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

ট্যাগ: